দাস প্রথা কী?
দাস প্রথা হচ্ছে কোনো মানুষকে ক্রয় করে নিজের অধীনস্থ করে ফেলা। ইসলাম পূর্ব যুগ থেকেই এই জঘন্য দাস প্রথা ছিল। অনেকে ভেবে থাকেন কেবল ইসলামই দাসপ্রথাকে অনুমোদন দিয়েছে, না; মধ্যযুগে সব ধর্মেই দাস-দাসী ক্রয়- বিক্রয় একটা রেওয়াজ ছিল। সেই যুগে ঘর থেকে কোনো সুন্দরী মেয়ে বেরই হতে পারতো না। পথেঘাটে দুর্বৃত্তরা তুলে নিয়ে গিয়ে বাজারে বিক্রি করে দিতো যৌনদাসী হিসেবে। এরপর বাজারে খদ্দেররা এসে দাসীদের স্তন ধরে, যৌনাঙ্গ দেখে তাদের মনঃপুত হলে কিনে নিয়ে যেত এবং বাসায় নিজের ইচ্ছামত ধর্ষণ করতো।
ইসলাম আসার পরেও এই ঘৃণিত প্রথাটিকে বন্ধ করেনি। বরং কাফিরদের সাথে ধর্ম প্রতিষ্ঠার নামে যুদ্ধ করার মাধ্যমে পরাজিত দলের নারীদের দাসী হিসেবে গ্রহণ করার প্রচলন সৃষ্টি হয়েছিল। যুদ্ধে মৃত কাফির পুরুষদের বোন, স্ত্রী, কন্যাকে যৌনদাসী হিসেবে সাহাবীদের মাঝে বন্টন করা হতো এবং অবশিষ্ট নারীদের বাজারে বিক্রি করে দেওয়া হত, সেখান থেকে যে কেউ ক্রয় করতে পারতো। তৎকালীন সময়ে সাহাবীরা অধিকাংশ সময় থাকত যুদ্ধে। দীর্ঘদিন ঘরের বাহিরে থাকার ফলে সেক্স উঠলে বাজারে গিয়ে দাসী ক্রয় করে এনে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতো। দাসীরা ছিল প্রভুদের সম্পত্তি, তাই প্রভুদের সব কথা তাদের মেনে নিতে হতো।
এরপর বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মহান ব্যক্তিত্ব যেমন আব্রাহাম লিংকন সহ অনেকে দাসপ্রথা নিষিদ্ধ করে সমাজ সংস্কার করে গেছেন।
তবে অবাক হতে হয়, এখনো কিছু ধর্মপ্রাণ ভাইয়েরা দাসপ্রথাকে সমর্থন করেন। তাদের দাবি : ইসলাম দাসীদের অধিকার নিশ্চিত করেছে, দাসী হত্যার মাধ্যমে বর্বরতার পরিচয় দেয়নি, দাসীদের ভরণপোষনের অধিকার দেওয়া হয়েছে। তৎকালীন সময়ে যুদ্ধে প্রচুর কাফির পুরুষ মারা যেত, তো তাদের স্ত্রী, কন্যাদের কি হতো? তাদের যৌন চাহিদা ছিল না? ইসলাম এগুলো সব নিশ্চিত করেছে।ইসলাম শান্তির ধর্ম।
আরে বাবা কাফির নারীদের বেলায় এত মধু কেন? কাফির পুরুষদের ধর্মের জন্য হত্যা করবা আর তাদের স্ত্রী, কন্যার বেলায় এত মধু? বলা বাহুল্য যে, দাসীভোগের ক্ষেত্রে দাসীর ধর্ম কি সেটা কোনো আবশ্যক বিষয় ছিল না। অর্থাৎ দাসী হিন্দু হোক, বৌদ্ধ হোক… তার সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা যাবে। আর দাসীরা যে প্রভুর সাথে সেক্স খুব উপভোগ করত তাও না। তারা তাদের পিতা, ভাইয়ের খুনীর সাথে মনের বিরুদ্ধে সেক্স করত, যা ছিল একপ্রকার ধর্ষন। তার মানে ইসলামে ধর্ম প্রতিষ্ঠার চেয়ে নারীভোগ বেশি প্রাধান্য পেল না? তাছাড়া অসংখ্য নারীভোগের লালসায় তো আগ বাড়িয়ে যুদ্ধ হবে। যদি কাফির নারীদেরও হত্যা করা হতো তাহলে বুঝতাম ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে ধর্মপ্রাণ ভাইয়েরা জিহাদ করেছে। তা না করে করল কি ইসলাম প্রতিষ্ঠার নামে যুদ্ধের মাধ্যমে যুদ্ধলব্ধ দাসীদের দিয়ে নিজেদের জৈবিক ক্ষুধা মেটাত।
ইসলামে বউ রাখার ক্ষেত্রে লিমিট ৪ জন আর দাসী রাখার ক্ষেত্রে কোনো লিমিটেশন নাই। এগুলা নিন্দা না করে সাপোর্ট করেন?