এসির বাতাস কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?
আজকাল প্রায় সকল অফিসেই এসি অর্থাৎ এয়ারকন্ডিশন ইউজ করা হয়। টানা অল্পসংখ্যক ঘণ্টা এসিতে থাকার পর বাসায় ফিরে অনেকেরই আর পাখার বাতাস সহ্য হয় না। এ কারণে অনেকে বাড়িতেও এসি ইউজ করছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত এসি নির্ভরশীলতা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। সেই সঙ্গে বাড়াতে পারে স্বাস্থ্যঝুঁকিও। যেমন-
একটানা এসিতে থাকলে শরীরের যেসব ক্ষতি হয়:
১. যারা দিনের বেশির অংশ টাইম বা অন্তত টানা ৯ হতে ১০ ঘণ্টা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে কাটান, তাদের শ্বাসতন্ত্রের নানা সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যায়।
২. এক্সট্রা এসির ব্যবহারের কারণে নয়নে নানা প্রকারের সংক্রমণ নোটিশ দেয়।
৩. যারা পুরো ৯ থেকে ১০ ঘণ্টা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে কাটান, তাদের মধ্যে আর্থাইটিস, মহৎ রক্তচাপ বা নানা ধরণের স্নায়ুর প্রবলেম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ে।
৪. এক্সট্রা এসির ব্যবহার বা দীর্ঘক্ষণ এসিতে থাকার ফলে অনেকের অ্যালার্জির সমস্যাও বৃদ্ধিতে পারে।
৫. লম্বা ক্ষণ এসিতে থাকার কারণে ত্বক তার স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারিয়ে শুষ্ক হয়ে যায় । সেই সময় ত্বকে নানা প্রবলেম দেখা দেয়।
৬. একের অধিক তত্ত্বানুসন্ধানে লক্ষ্য গেছে, যারা দীর্ঘসময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে থাকেন, তারা মাথা ব্যথা বা মানসিক অবসাদের মতো সমস্যায় বেশি ভোগেন।
তবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে হতে নিজেকে সুস্থ রাখার কতিপয় পরামর্শও দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা:
১. কক্ষের তাপমাত্রা ২১-২৫ ডিগ্রির মধ্যে রাখতে হবে। কামরার তাপমাত্রা কখনই ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম রাখা সঠিক নয়।
২. শীতের সময় এসির ইউজ দৃষ্টিপাত না করে চলুন।
৩. ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখার জন্য ময়েশ্চারাইজিং লোশন বা ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন।
৪. মাঝে মধ্যেই মুখে, হাতে পানি ইউজ করুন। প্রয়োজনে পাতলা চাদর গায়ে জড়িয়ে রাখতে পারেন।
শীতাতপনিয়ন্ত্রণ (এসি) যন্ত্রের শীতল বাতাস গরমের অস্বস্তি কমিয়ে দেয়। তৈরি করে ফুরফুরে আমেজ। অথচ ঠান্ডা এই হাওয়ায় ত্বকের কী দশা হয়, তা-ও আকাঙখা করা জরুরি। প্রাকৃতিক বায়ু এবং তাপমাত্রা থেকে সহসা করে কৃত্রিম বায়ুর সংস্পর্শে এলে রীতিমতো ত্বকের ক্ষতিই হয়।
স্বাভাবিক তাপমাত্রা হতে সহসা বা লম্বা সময় এসির ঠান্ডা বাতাসে থাকলে প্রথমেই ত্বকের আর্দ্রতায় মায়া পড়ে। বিশেষ করে ত্বকের আবরণের নিচের পানি শুকিয়ে যায়। খালি আখিতে এ বিগলিত লক্ষ্য যায় না। এর রিজন হলো, এসির বায়ু খুবই শুকনো ধরনের হয়। এজন্য শীতকালে ত্বকের যত্নে যে ধরনের সমাধান নেওয়া হয়, এসিতে থাকলেও সঠিক সেইম রকম সমাধান নিতে হবে বললেন বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভের উত্তম রূপবিশেষজ্ঞ শারমিন কচি।
এসির ঠান্ডা হাওয়ায় শুষ্ক ত্বকের একসাথে স্বাভাবিক এবং তৈলাক্ত ত্বকেও প্রবলেম বেড়ে যায় কয়েক গুণ। ত্বকের পরিচিত সমস্যাগুলো হচ্ছে ত্বকের পানির পরিমাণ কমে যায় চুলকানি হওয়া, ত্বক লাল হয়ে যাওয়া, ত্বক ফেটে যাওয়া, ঠোঁট শুকিয়ে যাওয়া, ত্বকে দ্রুত ভাঁজ পড়া। এসিতে থাকলে সাধারণ কয়েকটি সমাধান নেওয়া সমানভাবে জরুরি।
অনেকক্ষণ এসির ভিতরে থাকার পরিকল্পনা থাকলে ত্বকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার আবশ্যক।ময়েশ্চারাইজার হিসেবে জলপাই তেল ভালো, কিন্তু একটু ভারী লোশন ব্যবহারেও ফাস্ট ফল পাওয়া যাবে।
