সরিষার তেলের উপকারিতা কী?
আমরা যারা বাঙালি আছি, তাদের অতি পরিচিত একটি প্রয়োজনীয় দ্রব্য হলো এই সরিষার তেল। সরিষার তেলে রয়েছে ১৯২৭ ক্যালরি। এক কাপ সমপরিমাণ তেলে চর্বি থাকে ২১৮ গ্রাম। এছাড়া আরো রয়েছে প্রোটিন, ভিটামিন ই, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, ওমেগা, ফ্যাটি অ্যাসিড ও পরিমাণমতো ভিটামিন এ। চলুন, জেনে নিই এর উপকারিতা সম্পর্কে।
সরিষার তেলের উপকারিতা সমূহ:
- নিয়মিত ব্যবহার এই কালো আঁচড় মুছে করে ত্বক দীপ্ত করে।
- ঘর্মগ্রন্থি উদ্দীপিত করে দেহের তাপমাত্রা কমায়।
- অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও ছত্রাক প্রতিরোধক উপাদান থাকায় র্যাশ এবং রোগ সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে।
- দীর্ঘ কালো কেশের জন্য সরিষার তেল প্রচণ্ড উপকারী।
- গ্লুকোসিনোলেট থাকায় ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়।
- ত্বকের ব্রণ হোক বা ট্যান পড়া, ক্ষেত্রেই সরিষার তেল কাজে দেবে। ঈষৎ সংখ্যায় সরিষার তেল হাতে নিয়ে ভালো করে মালিশ করুন আপনার ট্যান পড়া জায়গায়। তারপর তুলা পানিতে ভিজিয়ে ধীরে সন্তপর্ণে দূর নিন। কিছুদিনের মধ্যেই চোখে পড়ার মতো সাহায্য দেখতে পাবেন।
- সরিষার তেল হজম প্রক্রিয়াকে সহায়তা করে এবং মেটাবলিক রেট বৃদ্ধি করে।
- এই তেলে থাকা গ্লুকোসিনোলেট (Glucosinolate) নামক উপাদান মলাশয় ক্যান্সার ও অন্ত্রের ক্যান্সার রোধে হেল্প করে।
- সরিষার তেল এক প্রকারের ডিকঞ্জেস্টেন্ট বা শ্বাসতন্ত্র পরিষ্কারক। এই তেলের সঙ্গে রসুন মিশিয়ে হৃদয়ে ও পিঠে লাগালে কফজনিত বিপদের সমাধান হয়।
- মেয়েদের মাসিকের বেদনা এবং গ্যাস এবং বদহজম জনিত পেটের ব্যথায় সরিষার তেল পেটে মালিশ করলে সুফল পাওয়া যায়।
- সরিষার তেল স্মরণশক্তি বৃদ্ধি ও চেতনার উন্নয়নে সহায়তা করে।
- পোকামাকড় এবং মশা তাড়ানোর জন্য ঔষধ পরিমাণে সরিষার তেল ব্যবহৃত হয়। এর গন্ধে পোকামাকড় কাছে ঘেঁষে না।
- রিবোফ্ল্যাভিন (Riboflavin) এবং নায়াসিন (Niacin) সমৃদ্ধ সরিষার তেল গাত্রে মেটাবলিজম বাড়িয়ে ওজন কমাতে সহযোগিতা করে।
- সুস্থ দাঁত ও জিঞ্জাভাইটিস এবং পেরিওডন্টাইটিস রোগ প্রতিরোধে সরিষার তেল সহায়ক।
সরিষার তেল রান্নায় ব্যবহার করলে গ্যাসটিক ও কম হয়। সায়াবিন তেল থেকে অনেক বেশি উপকার করে এই সরিষার তেল। এর আরও অনেক উপকারী দিক রয়েছে। ভবিষ্যতে আরও বেশি আলোচনা করার চেষ্টা করবো। আমাদের সাথে থাকুন। আর আপনাদের নতুন কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করে যানান। চেষ্টা করবো ভাবো উত্তর দেওয়া।
